আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি, এখন আমার আমি বলতে আর কেউ নেই
রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ঘুমাতে যাই। ভোর রাতে সেহেরির সময় একজন কল দিয়ে বলল আমার দোকান আগুন লেগেছে। তারপর ছুটে গিয়ে দেখি সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে দোকানে মালামাল তুলেছিলাম সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল৷ "আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি, এখন আমার আমি বলতে আর কেউ নেই"– এভাবেই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সব হারানোর বর্ণনা দিচ্ছিলেন ব্যবসায়ী জুনাইদ।
ভোর রাতে সেহেরি শেষে মানুষ ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লী মসজিদে এমন অবস্থায় দাউ-দাউ করে আগুনে জ্বলছে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী বাজারে মুদির দোকান সহ কয়েকটি দোকান। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ধ্বংসস্তপে পরিনত হল এই দোকান গুলো। সাথে পুড়ছে দোকানের স্বপ্ন।
সোমবার (১০ মার্চ) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী বাজারের ইউনিয়ন ব্যাংক সংলগ্ন পিছনে লেন, মাছ বাজারের দক্ষিণ লাইনে আগুন লেগে ৬টি দোকান আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই। এর মধ্যে একটি সুতার দোকান ছিল জুনাইদের।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মধ্যে রয়েছেন— আহমদ হোসাইনের মুদির দোকান ,রিদুয়ানের বোরকার দোকান,বাবুলের নেটের দোকান, জুনায়েদ এরি সুতার দোকান, ও ইয়ার মোহাম্মদের দোকানসহ আরও ৭/৮ টি দোকান ক্ষয় ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাবুল বলেন, ‘আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এই আগুন আমাদের স্বপ্ন, আশ্রয় সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন আমরা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট বাহিনীর দীর্ঘ ২ ঘন্টা চেষ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানা যায়।
অগ্নিকাণ্ডে এই ঘটনায় হতাহত না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি।স্থানীয়দের দাবি মাত্র কয়েক মিটিনের দ্রুতে ফায়ার সার্ভিস থাকলেও খবর দেওয়ার ১ ঘন্টা পরে উপস্থিত হয় তারা। এর মধ্যে ক্ষতি হয় লাখ লাখ টাকা।
দোকান গুলো আগুনে পুড়ে যাওয়ার কারণে অনেক দোকানদার নি:স্ব হয়ে গেছে। তারা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দোকানে মালামাল তুলছিল আজকে আগুনে পুড়ে গিয়ে তাদের সহায় সম্বল শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাষ্টার আবু জাফর বলেন– চকরিয়ার বদরখালী বাজারস্থ দোকানে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্তিত হয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। দীর্ঘ দের ঘন্টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরো বলেন,বিদ্যুতের সার্কিট থেকে এ আগুনের সুত্রপাত হয়। এতে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকার মত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Post a Comment